২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষ

ভারতে কমতে পারে সয়াবিনের ফলন

ভারতের অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় ভুট্টা ও আখ চাষে ঝুঁকছেন।

ভারতের অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় ভুট্টা ও আখ চাষে ঝুঁকছেন। কৃষক ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক বছর সয়াবিন চাষে ভালো লাভ না হওয়ায় তারা এখন বিকল্প ফসল বেছে নিচ্ছেন। এ কারণে দেশটিতে ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে সয়াবিনের ফলন কমতে পারে। খবর রয়টার্স।

ভারতে গ্রীষ্মকালে তেলবীজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় সয়াবিনের। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এর উৎপাদন কমে গেলে বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যতেল আমদানিকারক দেশ ভারতের আরো বেশি পরিমাণে পাম অয়েল, সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে।

মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার কৃষক সুবোধ পরমার বলেন, ‘গত তিন বছরে সয়াবিন থেকে খুব কম লাভ হয়েছে। তাই এ বছর আমি ভুট্টা চাষ করছি। এতে মুনাফা আয় তুলনামূলক বেশি হয়।’

শুধু মধ্যপ্রদেশই নয়, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকও ভারতের প্রধান সয়াবিন উৎপাদনকারী রাজ্য। এ অঞ্চলগুলোয়ও চলতি বছর সয়াবিনের ফলন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারত সরকার ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে প্রতি ১০০ কেজি সয়াবিনের ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য (এমএসপি) নির্ধারণ করেছে ৪ হাজার ৮৯২ রুপি (প্রায় ৫৭ ডলার)। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া চলতি বিপণন বর্ষে বাজারে তেলবীজটির দাম এর তুলনায় ১০-২০ শতাংশ কমেছে। ফলে অনেক কৃষক চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

সয়াবিন প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসওপিএ) নির্বাহী পরিচালক ডিএন পাঠক বলেন, ‘গত কয়েক মাসে সয়াবিনের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা এখন অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।’

সয়াবিন প্রধানত বৃষ্টিনির্ভর ফসল। এ বছর ভারতে স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এ কারণে সয়াবিনের পরিবর্তে বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে পানিনির্ভর আখচাষে অনেক কৃষক আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মুম্বাইভিত্তিক এক আন্তর্জাতিক পণ্যব্যবসায়ী।

সয়াবিনের চাষ কমে যাওয়ায় ভারতে এর তেলের উৎপাদনও কমতে পারে। দেশটি মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমলে স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলটির দাম বেড়ে যেতে পারে। এতে আমদানিনির্ভরতা আরো বাড়বে।

আরও